দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার একটি ব্যক্তিগত মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে উট পাখির সফল প্রজননের ঘটনা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম ফুটে বর্তমানে ৬টি উট পাখির বাচ্চা সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে, যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের মরনাই গ্রামে প্রকৌশলী মো. রইচ উদ্দীন মিয়া বাবুলের উদ্যোগে গড়ে ওঠা মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জেলার পার্বতীপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পবিত্র কুমার বাসসকে জানান, সম্প্রতি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে পার্কটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের মরনাই গ্রামের তাহেরপাড়া বাজারসংলগ্ন এ পার্কে উট পাখিই প্রধান আকর্ষণ। কয়েক মাস আগে ঢাকার একটি স্থান থেকে আনা দুটি উট পাখি এক সপ্তাহের মধ্যে ২৪টি ডিম দেয়। দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের সহযোগিতায় ডিমগুলো ইনকিউবেটরে সংরক্ষণ করা হয়।
ডিম থেকে মোট ৭টি বাচ্চা ফুটলেও একটি মারা গেছে। বর্তমানে ৬টি বাচ্চা সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। এর মধ্যে ৫টি বাচ্চা হাবিপ্রবির গবেষণাগারের ইনকিউবেটরে এবং ২টি পার্কের নিজস্ব ইনকিউবেটরে ফুটেছিল। গত ২৪ মে বাচ্চাগুলো ডিম থেকে বের হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি উট পাখি বছরে ৬০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে এবং প্রতিটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। ঘাস, শাক-সবজি ও পোল্ট্রি ফিডসহ সহজলভ্য বিভিন্ন খাদ্য উট পাখির খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। দিনাজপুর জেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশিকা আকবর তৃষা বলেন, সৌখিনতার পাশাপাশি উট পাখি পালন বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, দেশে উট পাখির বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে ২০২০ সাল থেকে গবেষণা চলছে। ২০২১ ও ২০২২ সালে ইনকিউবেটরে ডিম বসিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মেলেনি। ২০২৩ সালে একটি বাচ্চা ফুটলেও পরে সেটি মারা যায়। তবে এবার ৬টি বাচ্চার সুস্থভাবে বেড়ে ওঠাকে তিনি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, সঠিক পরিচর্যা, গবেষণা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ সাফল্য দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত হতে পারে।



















