সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
মধ্যনগরে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও সংস্কার কাজের উদ্বোধন মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সাথে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় বানারীপাড়ায় বিজয় দিবস উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্তে বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার চবির প্রশাসনিক ভবনে তালা: উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ইউজিসির সেক্টরভিত্তিক কর্মশালায় পবিপ্রবির উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের অংশগ্রহণ কুবিতে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা, সচেতনতা, প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ওসমান হাদি রাউজান থানার অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার মুকসুদপুরে নবাগত ইউএনও মাহমুদ আশিক কবিরের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কুয়াকাটার আলিপুর মধ্যবাজার সড়কে দুর্ভোগের অবসান, শুরু মেরামত নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা নেই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত: সিইসি সংবাদ সম্মেলনে হাফেজ বারেক: অন্যের জমি নয়, নিজের জমির ধান কেটেছি ইরাসমাস ও বিনিময় কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেল কুবি পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর উদ্যোগ ৩৬ জন শিক্ষানবিশ সদস্য নিয়ে নতুন যাত্রায় পবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি মির্জাপুরে শিশুকে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ কুবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে জাগ্রত চৌরঙ্গীর মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই শহিদুলের পরিবারের, খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন

মোঃ রাশেদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ছাট গোপালপুর গ্রামের গৃহহীন শহিদুল ইসলামের এখন আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। দুই শিশু সন্তান, অসুস্থ বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করছেন তিনি। চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন এ পরিবারটি।

জানা গেছে, শহিদুল একসময় শিলখুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুক্তিভিত্তিক ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। অন্যের জমিতে একটি ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে পরিবারসহ বসবাস করতেন। মা অসুস্থ হয়ে পড়লে কাজ ও ঘর ছেড়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকা চলে যান। কিছুদিন পর এলাকায় ফিরে এসে দেখেন, তার বসবাসের জায়গাটি জমির মালিক অন্য কাজে ব্যবহার করছেন। ফলে শহিদুল পরিবারসহ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

এরপর থেকে প্রায় ১১ মাস ধরে বিভিন্ন দোকানের বারান্দা ও বাজার এলাকার খোলা জায়গায় রাত কাটান তারা। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনের বারান্দায় আশ্রয় নিলে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তাদের জিনিসপত্র থানায় জমা দিয়ে সরিয়ে দেন। এতে হতভম্ব হয়ে পড়েন শহিদুল।

অবশেষে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে খোলা আকাশের নিচে দুই শিশু সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাত্রিযাপন শুরু করেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে যায়।

শহিদুলের মা ছকিনা বেওয়া (৬২) বলেন, “বাবাগো, আমাদের আর কোনো ঘরবাড়ি নাই। অনেক দিন ধইরা ছোট দুইডা নাতি আর ছেলের বউ নিয়া বারান্দায় ঘুমাইতাছি। বৃহস্পতিবার দারোয়ান আমাগো জিনিসপত্র থানায় দিয়া তাড়ায় দিছে। এখন এই ঠান্ডায় কই যামু?”

শহিদুল ইসলাম বলেন, “নিজের জায়গা না থাকায় কবরস্থানের পাশে একসময় থাকতাম। পরে একজন মানুষ দয়া করে পরিত্যক্ত জায়গায় থাকতে দেয়। এখন সেখান থেকেও উচ্ছেদ। সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে অনেক ঘর নাকি ফাঁকা আছে — যদি একটি ঘর পেতাম, শিশু সন্তানদের নিয়ে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম।”

এ বিষয়ে শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “শহিদুলের মা অসুস্থ হয়ে পড়লে সে কাজ ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। সে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘরে থাকতে চাইলে তার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র বলেন, “শহিদুল যদি আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসের জন্য আবেদন করে, তাহলে তাকে ঘর প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩