Tuesday , 25 August 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অপরাধ
  3. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  4. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আফ্রিকা মহাদেশ
  8. আবহাওয়া
  9. ইউরোপ মহাদেশ
  10. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  11. এক্সপ্লেইনার
  12. এশিয়া মহাদেশ
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট

চার বছরেও শেষ হয়নি সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগে কয়রাবাসী

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের একাধিক কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের পরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোথাও সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও খোয়া ও বালু ছড়িয়ে রেখে কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রকল্প শুরু হলেও বাস্তবে অনেক সড়ক আগের চেয়েও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষায় কাদা ও জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালুর কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর তা মাঝপথেই থেমে আছে। কোথাও পুরোনো কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়েছে, কোথাও রাস্তার ওপর খোয়া-বালু ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়, কারণ পানির নিচে গর্তগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা বাজার পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়কের জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও প্রকল্পটি অসমাপ্ত রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ডব্লিউবিএম লেয়ার অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকার পর নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে।

দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কাজটি পায় মের্সাস নাজিফা এন্টারপ্রাইজ। এ প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ১২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য চুক্তি হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। এ কারণে কয়রা উপজেলা প্রকৌশল অফিস গত ৯ জুলাই পাঁচ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার জন্য তাগিদপত্র দেয়। এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেনি।

সড়কসংলগ্ন ১ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, এই সড়কটি তিনটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সবাইকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শিক্ষক মেসবাহ উদ্দীন বলেন, উপজেলার ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হয়। চার বছরের বেশি সময় পার হলেও সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়নি। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতার জন্য তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কয়রা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন জানান, তাগিদপত্র দেওয়ার পরও কাজ শুরু না করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতিও চলছে।

এদিকে আমাদী ইউনিয়নের হুদুবুনিয়া-চাঁন্নিরচক সড়কের অবস্থাও একই রকম। পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিংয়ের জন্য ২০২১ সালে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পায় মেসার্স রাকা-সিয়াম (জেভি) এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরুর কিছুদিন পর সড়ক খুঁড়ে রেখে কার্যত কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় চার বছর হতে চললেও প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বর্তমানে রিটেন্ডারের জন্য যৌথ মেজারমেন্টের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খোঁড়াখুঁড়ির পর কাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া, রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং সময়মতো পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কৃষকরাও উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

চান্নিরচক গ্রামের ভ্যানচালক ভবতোষ মন্ডল বলেন, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অনেক সময় গর্তে পড়ে ভ্যান উল্টে যায়। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও সবসময় শঙ্কায় থাকতে হয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষকে এত দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

কয়রার সচেতন নাগরিক ও কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ. ব. ম. আ. মালেক বলেন, উন্নয়নের নামে সড়ক খুঁড়ে বছরের পর বছর জনগণকে দুর্ভোগে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ না হলে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে।

তবে এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, কিছু প্রকল্পে কারিগরি জটিলতা, নকশা সংশোধন এবং সমন্বয় সমস্যার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থগিত প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে এবং কিছু প্রকল্প পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির কয়রা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব বলেন, “মদিনাবাদ হাইস্কুল থেকে ৪ নম্বর কয়রা পর্যন্ত সড়কটির কাজ শুরু না করায় ঠিকাদারকে তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল

আপনার জন্য নির্বাচিত

জনগণের দুঃখে পাশে এবি পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ বাদশা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

বসন্ত প্রেমের ঋতু

চৌদ্দগ্রামে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী নাহিদের গণসংযোগ

কুড়িগ্রামে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টূর্ণামেন্ট’র ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নবীনগরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চবি শিবিরের নতুন নেতৃত্বে ইব্রাহীম রনি ও পারভেজ

তারুণ্যের উদ্ভাবনী শক্তিতে মুখর কুয়েট: চলছে ‘ক্যালিব্রেশন ২.০

দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবিসাস এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

কুবি শিক্ষার্থীকে ট্রেনে উত্ত্যক্ত করার দায়ে পাঁচ যুবক আটক

তিস্তার পানি বাড়লেও হামার বিপদ, কমলেও হামার বিপদ