ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামে শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৪১ জন আহত হয়েছেন। দুর্যোগে কয়েক শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পরিবহন ও বিমান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে টর্নেডো আঘাত হানার আগে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়ের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। একই কারণে আউদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ভুয়েলতা আ এস্পানা সাইক্লিং প্রতিযোগিতার তৃতীয় ধাপও বাতিল করা হয়। শিলাবৃষ্টির মধ্যে প্রতিযোগীদের আশ্রয় নিতে বাধ্য হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার জনসংখ্যার পোমা গ্রাম। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আনুমানিক ৩০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে ১২০ জনের বেশি জরুরি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
টর্নেডোয় আহত ৪১ জনের মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। তাঁর স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির একটি অংশ ধসে পড়ায় তিনি আহত হন।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, কাছের আরকেত-আঁ-ভাল গ্রামে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। ঝড়ের কারণে বোর্দো, মার্সেই, নিস, তুলুজ এবং প্যারিসের বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো। এছাড়া ১০টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার ৮০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, ফ্রান্সে প্রতি বছর গড়ে কয়েক ডজন টর্নেডো দেখা যায়। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে টর্নেডোর সংখ্যা ও তীব্রতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



















