ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধির প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে, বাজার তদারকি আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার পাহাড়তলীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে প্রতি কেজি চিনিগুঁড়া চালের দাম ছিল ১৯৬ টাকা, যা বর্তমানে খুচরা বাজারে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতিটি ডিমের পাইকারি দাম ছিল ৮ টাকা ৬০ পয়সা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১১ টাকা ৬০ পয়সা। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়। পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজা খান বলেন, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। আর চিনিগুঁড়া চালের ৫০ কেজির বস্তার দাম নতুন করে ২০০ টাকা বেড়ে ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও বেড়েছে মোটর, চিনি, ছোলা, পাম অয়েল ও চায়না রসুনের দাম। চলতি বছরের মার্চে প্রতি লিটার পাম অয়েলের পাইকারি দাম ছিল ১৪৭ টাকা ১০ পয়সা, যা বর্তমানে বেড়ে ১৫৪ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। জানুয়ারিতে পাম অয়েলের টনপ্রতি বুকিং রেট ছিল ১ হাজার ৪ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ১৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে চিনির পাইকারি দাম কেজিতে ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৩ টাকা ৭৫ পয়সা হয়েছে। মোটরের দাম কেজিতে ৬ টাকা এবং ছোলার দাম ৭ টাকা ৫ পয়সা বেড়েছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বেচাকেনা বাড়লেও মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধি। তাঁর মতে, আমদানি ব্যয় কমে গেলে পণ্যের দামও কমে আসবে। এদিকে, দেশি পেঁয়াজ ও চায়না আদার দাম স্থিতিশীল থাকলেও চায়না রসুনের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ১২৩ টাকায় উঠেছে। হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কিট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস জানান, দেশি পেঁয়াজের দাম বরং কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে।
নগরীর হালিশহর, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি, বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর দামও বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন সবজির দাম এখন ১০০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। হালিশহরের মুরগি ব্যবসায়ী মো. শফি বলেন, চাহিদা বাড়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পূর্ব নাসিরাবাদের বাসিন্দা আতাউল গণি জানান, কয়েক মাস আগে ১৯০ টাকায় কেনা চিনিগুঁড়া চাল এখন ২৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাঁর মতে, ডিম, মুরগি ও সবজিসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং বাজারে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বিশেষ কোনো উপলক্ষ এলেই অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। তাই নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মূল্যতালিকা না রাখা, রসিদ সংরক্ষণে ব্যর্থতা বা অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



















