মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে নিয়মিত নসিহত ও উপদেশ দিতেন। তাঁর বাণীতে সময়, স্বাস্থ্য, যৌবন, সম্পদ ও জীবনের সঠিক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হজরত আমর ইবনে মায়মুন (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বলেন, পাঁচটি বিষয় আসার আগে পাঁচটি নিয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে—বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং মৃত্যুর আগে জীবন (তিরমিজি)। এসব সময়কে আল্লাহর ইবাদত, সৎকাজ ও মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রসুল (সা.) পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, নিজের ভাগ্যে সন্তুষ্ট থাকতে হবে, প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে, নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয় তা অন্যের জন্যও পছন্দ করতে হবে এবং অতিরিক্ত হাসি-তামাশা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, বেশি হাসি মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)।
হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। সেগুলো হলো—জীবন কীভাবে কাটিয়েছে, যৌবন কোথায় ব্যয় করেছে, সম্পদ কীভাবে অর্জন করেছে, কোথায় ব্যয় করেছে এবং অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে (তিরমিজি)।
এ ছাড়া হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুল (সা.) বলেন, স্বাস্থ্য ও অবসর—এই দুটি এমন নিয়ামত, যার প্রকৃত মূল্য অধিকাংশ মানুষ উপলব্ধি করতে পারে না (বুখারি)। অন্যদিকে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণিত আরেক হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষের কাছে প্রথম যে নিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে, তা হলো স্বাস্থ্য ও সুস্থতা। আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন, তিনি কি তাকে সুস্থতা এবং তৃষ্ণা নিবারণের জন্য শীতল পানি দান করেননি (তিরমিজি)।



















