রাজশাহীর পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা মিডলচর, যা ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পেয়েছে, এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কৃষিজমি ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মিডলচরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে সেখানে মানুষের ভিড় বেশি থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক দর্শনার্থী অনুমতি ছাড়াই বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করছেন। এতে নারী ও শিশুদের চলাফেরায় অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
ড্রোন ক্যামেরার অবাধ ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দা মরিয়ম নেছা বলেন, খোলা পরিবেশে দৈনন্দিন কাজের সময় ড্রোনে ছবি ধারণ করা হলে তারা অস্বস্তিতে পড়েন। এছাড়া কেউ কেউ পানি খাওয়ার অজুহাতে বাড়িতে প্রবেশ করায় নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষক লালন আহমেদ জানান, অতিরিক্ত মানুষের চলাচলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু পালনকারী ইব্রাহিম হোসেনের ভাষ্য, দর্শনার্থীদের ভিড়ে চরাঞ্চলের ঘাস নষ্ট হচ্ছে, গরু-ভেড়াও স্বাভাবিকভাবে চরতে পারছে না। পাশাপাশি পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরাও। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, শহরের কাছেই এমন মনোরম পরিবেশ সহজেই ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। আইনজীবী সোহাগ বান্না সোহাগও বলেন, নদী, চর ও নৌভ্রমণের সমন্বয়ে জায়গাটি পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দারুণ উপযোগী।
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে মিডলচর রাজশাহীর পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। নিরাপদ নৌযাত্রা, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটনবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এ লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় নৌকার মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা এবং যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে সচেতন করা হয়েছে।
নৌ-পুলিশের রাজশাহী অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, পদ্মায় এখন ভরা মৌসুম থাকায় যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ও মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন জানান, অনুমতি ছাড়া কারও বাড়িতে প্রবেশ, হয়রানি বা ড্রোনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিসরের ছবি ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন দর্শনার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিকল্পিত পর্যটন গড়ে তুলতে পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।



















