ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী নৌকাডুবির পর তিন দিন সাগরে ভেসে থাকা পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক শিশুকন্যাও রয়েছে বলে রোববার এক উদ্ধার কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত বুধবার বড় দ্বীপ সুলাওয়েসির দক্ষিণে ছোট দ্বীপ সেলায়ার-এর কাছে যাত্রাকালে ৭০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, নিখোঁজ হিসেবে আগে তালিকাভুক্ত ২৫ জনের একটি দলের সাথে ছিলেন তারা। পরে প্রবল বাতাসের কারণে তারা অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার এএফপিকে বলেন, ‘নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর তারা যে কোনো ধরনের সরঞ্জাম বা ভাসমান উপকরণ পেয়েছেন, তা ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করেন।’
তিনি জানান, তারা দড়ি দিয়ে জেরিক্যান ও কর্কের টুকরো একসঙ্গে বেঁধে একটি ভাসমান ব্যবস্থা তৈরি করেন এবং তার ওপর উঠে ভেসে ছিলেন।
আরিফ বলেন, শনিবার বিকেলে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করেন এবং সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষকে রেডিও বার্তা পাঠান।
আরিফ জানান, পর্যাপ্ত খাবার ও পানি ছাড়া কয়েক দিন সাগরে ভেসে থাকার কারণে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ক্লান্ত ও দুর্বল দেখাচ্ছিল। তবে তারা ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও বিস্কুট খেয়ে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আরিফ জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চলছে। এ কাজে পাঁচটি বড় জাহাজ, একটি অনুসন্ধানী বিমান এবং একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, নৌকাটির যাত্রী তালিকায় ৫০ জনের নাম ছিল। তবে, পরবর্তী যাচাইয়ে দেখা যায়, নৌকাটিতে মোট ৭৮ জন যাত্রী ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ায় নৌকার প্রকৃত যাত্রী সংখ্যা ও সরকারি তালিকার সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকা একটি সাধারণ ঘটনা। দেশটিতে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌ দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
এর আগে জানুয়ারিতে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় একটি নৌকা ডুবে গেলে তিনজন স্প্যানিশ পর্যটক নিহত হন। উদ্ধার অভিযান শেষ করার পর কর্তৃপক্ষ ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে সরকারি হিসাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।



















