মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
মোঃ সোহাগ আহমেদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লতাচাপলী ইউনিয়নে এক রাতে তিনটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রাতে ইউনিয়নের পূর্ব আলিপুর গ্রামে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এতে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাসা থেকে ধান বিক্রির বড় অংকের টাকা ও স্বর্ণ লুটের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব আলিপুর গ্রাম এখন চুরির আতঙ্কে স্থবির। সোমবার রাতে যখন পুরো গ্রাম নিঝুম শান্ত, ঠিক তখনই পরিকল্পিতভাবে হানা দেয় চোর চক্র।
চুরির শিকার প্রথম বাড়িটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহাদত হোসেনের। শাহাদত জানান, তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকায় তিনি ঘরের এক পাশের বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলেন। এই সুযোগে চোর চক্র কৌশলে অন্য পাশের বারান্দা দিয়ে প্রবেশ করে তালাবদ্ধ আলমারি ভেঙে লুট করে নেয় ধান বিক্রির নগদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালঙ্কার।
মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, “কষ্টার্জিত ধান বিক্রির টাকা এবং পরিবারের স্বর্ণালংকার হারিয়ে আমি এখন দিশেহারা। পরিকল্পিতভাবেই এই চুরি করা হয়েছে।”
তবে চোরদের তান্ডব কেবল শাহাদতের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই রাতে ওই গ্রামের আরও দুই বাসিন্দা মোঃ মহসিন ও মোঃ মনিরের বাড়িতেও হানা দেয় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী মহসিন জানান, তার বাড়ি থেকে বড় ধরনের অর্থ লুট না হলেও মূল্যবান মালামাল লুটপাট করেছে এবং বেশ কিছু আসবাবপত্র ও মালামাল ভাঙচুর করে নষ্ট করে দিয়ে গেছে চোররা।
অন্যদিকে, তৃতীয় শিকার মোঃ মনির এখন আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব। মনির জানান, ব্যবসার কাজে খাটানোর জন্য ঘরে জমানো ছিল নগদ ৫০ হাজার টাকা। চোররা সেই টাকা নিয়ে যাওয়ায় তার ব্যবসার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
মোঃ মনির হোসেন বলেন, “ব্যবসায়ের জন্য টাকাগুলো অনেক কষ্টে জমিয়েছিলাম। সব নিয়ে গেছে, আমি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
একই রাতে একই গ্রামে তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশি টহল জোরদার করে দ্রুত এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হোক।
2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩