ইউক্রেনের পাভলোগ্রাদ শহরে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়া ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে তিন বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে চলতি গ্রীষ্মে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি বেড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলার প্রথম বছরের পর গত মাস ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা বলেন, ‘তিনজন নিহত হয়েছেন।’ পরে তিনি জানান, ‘১৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী একটি মেয়েশিশু রয়েছে।’ তিনি বলেন, সব আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউক্রেনের পূর্ব-মধ্যাঞ্চলীয় শহর পাভলোগ্রাদের যুদ্ধ-পূর্ব জনসংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। যুদ্ধজুড়ে শহরটি রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। রাশিয়ায় কর্মকর্তারা জানান, ভোরোনেজ শহরের উপকণ্ঠে ইউক্রেনের একটি ড্রোন একটি বাড়িতে আঘাত হেনে আগুন ধরিয়ে দিলে তিন বছর বয়সী এক শিশুপুত্র নিহত হয়। মস্কো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ভোরোনেজে ইউক্রেন নিয়মিত ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে কিয়েভ রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও গভীরে আঘাত হানছে।
আঞ্চলিক গভর্নর আলেক্সান্ডার গুসেভ জানান, শিশুটির বাবা-মা ‘বিভিন্ন ধরণের আঘাত’ পেয়েছেন। এদিকে ক্রেমলিন-নিযুক্ত কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় রাতে ইউক্রেনের হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। স্থাানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ছাড়া রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলটিতে প্রায়ই হামলা হয়। ক্রেমলিন পূর্ব ইউক্রেনের পুরো অঞ্চল দখলের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সংঘাত নিরসনের আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে। জাতিসংঘ বুধবার জানায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।



















