রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ কুখ্যাত সদস্য গ্রেফতার মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নির্বাচনী প্রচারণায় জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সভা-সমাবেশ নয় : ইসি ডিমলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে ৭৩ তম বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস পালিত শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুলের বাজার নিয়ামতপুরে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ অনুষ্ঠিত নওগাঁ-১ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগ নিখোঁজের ৬ দিন পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত ঈদগাঁও উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রীতি সম্মিলনী অনুষ্ঠিত বাউফলে ১০ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে একাংশের সংবাদ সম্মেলন ঈদগাঁওয়ে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে পথসভা ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বানে নির্বাচনী মাঠে চরমোনাই নাসিরনগরে ছাত্র হত্যা মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী গ্রেফতার ‎কুবিতে ‘হাফেজ-ই-কুরআন সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত কুবিতে রোটার‍্যাক্ট ক্লাবের ১৩তম চার্টার্ড দিবস উদযাপন মহিপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল আত্রাইয়ে নিখোঁজের দেড় বছর পর সুমন হত্যার স্বীকারোক্তি, উদ্ধার দেহাবশেষ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন : আন্দোলনে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন রাজনৈতিক নেতারা

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশি বর্বরতায় সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। তারা বেশকিছু উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে এসব জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা অফিসারদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারাই বেশি ঠিক করে দিতেন বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। ৫০ পাতার রিপোর্টে পুলিশের বয়ানে উঠে এসেছে সেসময়কার নির্দেশদাতা এবং অপরাধের নমুনা।

‘আফটার দ্য মনসুন রেভোলিউশন: এ রোডম্যাপ টু লাস্টিং সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, অতীতে কীভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের নানা দিকও উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা এইচআরডব্লিউকে জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের বিদ্রোহের সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অস্থিরতার সময় পুলিশের ভূমিকা মাঠপর্যায়ের অফিসারদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারাই বেশি নির্ধারণ করে দিতেন।’

আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সিনিয়র অফিসারদের লাইভ সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে দেখেছেন এবং প্রতিবাদকারীদের গুলি করার জন্য অফিসারদের সরাসরি এমনভাবে নির্দেশ দিতে দেখেছেন যেন ‘তারা কাউকে ভিডিও গেমে গুলি করার নির্দেশ দিচ্ছেন।’

আন্দোলনের সময় ১৮ বছর বয়সি আমির হোসেন পুলিশের হাতে ধরা পরে। এসময় তারা বিল্ডিং থেকে লাফ দিতে বলে। হিউম্যান রাইট ওয়াচকে আমির বলেছেন, ‘পুলিশ যখন আমার দিকে আসছিল, তখন ধরা পড়ে যাবার ভয়ে আমি নির্মানাধীন একটা বিল্ডিংয়ে উঠি। যখন আমি চারতলায় পৌঁছাই তখন পুলিশ আমাকে লাফ দিতে বলে। আমি জানি যদি এখান থেকে পরে যাই তবে, আমি মারা যাব। চারতলায় তাই একটি রডে ঝুলে থাকার চেষ্টা করি। একজন পুলিশ অফিসার আমার দিকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। ততক্ষণে আমি তিন তলার ঝুলছিলাম। এসময় অনেক পুলিশ আমার পায়ে আঘাত করছিল। পরে তারা চলে যায়। আমার তখন অনেক ব্যথা হচ্ছিল। বাধ্য হয়ে তিনতলা থেকে লাফ দেই। তখন আমার একটি পা ভেঙে যায়। আমি এখনও বুঝতে পারি না কেন তারা আমাকে ধাওয়া করে গুলি করল!’

গুলি করার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। বাংলাদেশ পুলিশের একজন অফিসার বলেছেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদেরকে কঠোর হতে এবং ‘নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কোনও অপরাধী’কে রেহাই না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা স্পষ্টভাবে ‘গুলি করো’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, তবে তাদের নির্দেশাবলী স্পষ্ট ছিল: সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করুন, আপনি যা প্রয়োজন মনে করেন তা করুন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিন।’

তিনি এইচআরডব্লিউকে বলেন, আন্দোলনের সময়কার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আন্দোলন চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও সরাসরি পুলিশের বর্বরতার সাক্ষী হতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগস্টে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলছেন, ‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা…বাকিডি যায় না স্যার।’

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩