গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভোররাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপাল চরণ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভোররাতে বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে বাইরে এসে তারা প্রায় ৩০০ মিটার এলাকার মধ্যে তিনটি পৃথক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত দেখতে পান। এর মধ্যে স্থানীয় জামায়াত নেতা প্রফেসর মো. আবু সোলায়মান সরকার সাজার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে।
এর দুই মিনিট পর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপাল চরণ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এবং ৪টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রেজার বাড়ির পাশের সড়কে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
গোপাল চরণ বড়বাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. আতাউর রহমান জানান, ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে এসে তিনি বিস্ফোরণের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে নামাজ শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার বিষয়ে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা প্রফেসর মো. আবু সোলায়মান সরকার সাজা বলেন, “বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি আমার বাসার বাউন্ডারি দেয়াল ঘেঁষে ককটেলের তাজা আলামত পড়ে আছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরাই পরিকল্পিতভাবে এলাকায় ভীতি ছড়াতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।”
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















