Tuesday , 15 September 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অপরাধ
  3. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  4. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আফ্রিকা মহাদেশ
  8. আবহাওয়া
  9. ইউরোপ মহাদেশ
  10. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  11. এক্সপ্লেইনার
  12. এশিয়া মহাদেশ
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট

ব্যস্ত সড়ক এখন জনশূন্য, সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগে এলাকাবাসী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
September 15, 2026 7:42 am

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাবনার বেড়া উপজেলার বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া আঞ্চলিক সড়কটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়া পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের কারণে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

একসময় ব্যস্ত এই সড়কজুড়ে এখন দেখা যায় লতাগুল্ম, ঝোপঝাড় ও বড় বড় গর্ত। পিচ উঠে গিয়ে ইট-সুরকি সরে গেছে বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন অনেকটা পরিত্যক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। মাঝেমধ্যে ঝোপের ভেতর থেকে শেয়াল ও বিষধর সাপ বেরিয়ে আসে বলেও জানান তারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বিল এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয়দের উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ করতে ২০১৩ সালে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। বেড়া পৌরসভার বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙা হয়ে খাকছাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি বিল এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি চালুর পর চাকলা ও কৈতোলা ইউনিয়নের খাকছাড়া, নলভাঙা, চাকলা, দমদমা, জয়নগর, কৈতোলা ও বড়শিলাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়। কৃষকরা কম খরচে ধান, পাট ও শাকসবজি উপজেলা সদরের বাজারে নিয়ে যেতে পারতেন। পাশাপাশি মূল মহাসড়ক এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ থাকায় সময় ও যাতায়াত খরচও কমেছিল।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিল এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সড়কটি নিচু ও সরু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে নির্মাণের পর থেকেই বর্ষা ও অতিবৃষ্টির সময় বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। প্রথম কয়েক বছর কোনোমতে যানবাহন চলাচল করলেও পরে নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ধীরে ধীরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় ঝোপঝাড় ও আগাছায় রাস্তার অংশ ঢেকে গেছে। বর্তমানে রিকশা-ভ্যান বা সাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নলভাঙা গ্রামের প্রবীণ কৃষক মো. হোসেন আলী বলেন, ‘একসময় এই রাস্তা দিয়া সহজে বাজারে যাইতাম, হাটে ধান-সবজিও বেচতে লইয়া যাইতাম। এহন তো দিনের বেলাতেও এই রাস্তায় হাঁটতি ভয় করে। সাপ-শেয়ালের উপদ্রব। বাধ্য হয়া ৩ কিলোমিটার পথের বদলে ৮ থিকা ১০ কিলোমিটার ঘুইরা উপজেলা সদরে যাইতে হয়। যাতায়াত ভাড়া দ্বিগুণ দেওয়া লাগতেছে।’

স্থানীয়রা জানান, সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।

ভ্যানচালক আবুল হাশেম বলেন, ‘রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়। রাতে কোনো জরুরি রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে, সড়কটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের জন্য একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোন লাভ হয়নি।’

খাকছাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন বলেন, ‘সড়কটি যখন ভালো ছিল, তখন পাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী আমাদের স্কুলে আসত। কিন্তু রাস্তাটি ঢেকে যাওয়ায় এবং নিরাপত্তার অভাবে এখন দূরের শিক্ষার্থীরা আর আসতে চায় না। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ করছেন বা দূরের স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। এক সময়ের ব্যস্ত সড়কটি এখন জনশূন্য।’

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণ ও মানোন্নয়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি।

পাবনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নলভাঙা-বড়শিলা সড়কটি ওই এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে পাঠানো একটি প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ আটকে যায়। সম্প্রতি, পাবনা প্রকল্প নামে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর আওতায় সড়কটি বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

সর্বশেষ - আইন-আদালত