ফিলিপাইনের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম অঞ্চলে সোমবার ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এই অঞ্চলে এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচিত পার্লামেন্ট গঠনের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ইন মুসলিম মিনদানাও (বিএআরএমএম) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে শুরু হওয়া দীর্ঘদিনের একটি শান্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কোটাবাতো পুলিশের প্রধান জিবিন বংকায়াও জানান, মধ্যরাতের কিছু আগে একটি স্কুলের বাইরে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই স্কুলটিকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ভোট দেওয়ার জন্য কারা আগে লাইনে দাঁড়াবে, তা নিয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে প্রথমে বিরোধ শুরু হয়।
বংকায়াও বলেন, ‘দুই দলের মধ্যে লাইনে আগে জায়গা নেওয়া নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার শুরু।’
তিনি জানান, প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে ভিড়ের মধ্যে গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গোলাগুলিতে জড়িত ব্যক্তিরা এমন কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, যেগুলো গড়ে উঠেছে মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট (এমআইএলএফ) থেকে। এই সংগঠনটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্যাথলিক দেশ ফিলিপাইনে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে কয়েক দশক ধরে লড়াই করেছে।
বাংসামোরো অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং প্রভাবশালী পরিবারগুলোর মধ্যে রক্তের প্রতিশোধ বা পারিবারিক সংঘাতের জন্য পরিচিত।
সম্প্রতি এএফপির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিভিন্ন দলের নেতারা বলেছিলেন, এই অঞ্চলে নির্বাচন যদি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেটিই হবে একটি বড় সাফল্য।
নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গোটা বাংলসামোরো অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে বিশেষ দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত মাসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস-এর নিয়োগ করা অঞ্চলটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
এদিকে সোমবার ভোরে আরেকটি ভোটকেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথকভাবে এক ব্যক্তি আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। বিস্ফোরণের কারণ কী, তা জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রঃ বাসস



















