ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে এনে দুই নৃত্যশিল্পীকে তিতাস নদীর মাঝপথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার মাঝামাঝি তিতাস নদীতে এ ঘটনা ঘটে। শাহবাজপুর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এক তরুণ (১৯) নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন শাহবাজপুর গ্রামের রাকিব মিয়া (২২)। তিনজন পেশাদার নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি হয় এবং মোবাইল ফোনের আর্থিক পরিষেবার মাধ্যমে অগ্রিম ২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওই তরুণ, এক কিশোরী (১৬) ও এক তরুণীকে (১৯) নিয়ে সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছান। পরে রাকিব মিয়াসহ দুই যুবক তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে রাকিবসহ আরও পাঁচজন তাদের একটি নৌকায় তুলে নদীপথে নিয়ে যেতে থাকেন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, কিছু দূর যাওয়ার পর নৌকায় থাকা দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা পুরুষ সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাতে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর এলাকায় নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার এক নারী শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগীদের পক্ষে সরাইল থানায় মামলা করেন। ওই রাতেই সরাইল উপজেলার বুড্ডা গ্রাম থেকে শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, মামলার পরপরই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















