রাজধানীর খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলামকে নির্যাতনের একটি ভিডিও তাঁর ভাইয়ের মুঠোফোনে পাঠিয়েছিলেন স্বামী সোহেল শিকদার। পরে স্বজনেরা বাসায় গিয়ে মুক্তাকে মৃত অবস্থায় পান। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুক্তা ইসলামকে নির্যাতনের প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিও পেয়েছে পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর পায়ে শিকল পরিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং সোহেল শিকদার চামড়ার বেল্ট দিয়ে তাঁকে মারধর করছেন। এ সময় সোহেলকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু।’
ভিডিওতে মুক্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ নির্যাতনের সময় পাশের কক্ষে থাকা তাঁদের দুই সন্তান কান্না করছিল। তখন মুক্তা স্বামীকে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মুক্তার ছোট ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মুক্তার স্বামী সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব ভৌমিক।
পুলিশ জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর সোহেল শিকদার মুক্তাকে মারধরের একটি ভিডিও তাঁর ভাই তানভীর রহমানের মুঠোফোনে পাঠান। ভিডিওর সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ পরে সোহেলের জব্দ করা মুঠোফোন থেকেও ভিডিওটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে সোহেল মুক্তার ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মুক্তাকে মারধর করা হতো বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ছাড়া বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ ও যৌতুকের কারণে সোহেল তাঁকে নির্যাতন করতেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। একই এলাকার সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা খিলক্ষেতে বসবাস করতেন। সোহেল প্রথমে মুদিদোকান করতেন, পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসায় ভালো করতে না পারার পর তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য বাড়ে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব ভৌমিক বলেন, মৃত্যুর দুই দিন আগে মুক্তাকে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মারধরের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, সোহেল জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, মুক্তা ফাঁস নিয়েছেন। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সোহেল শিকদারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং মুক্তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।



















