খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধস ও সড়কে পানি ওঠায় সাজেক ও লংগদুগামী সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
গত শুক্রবার রাতভর বৃষ্টির ফলে দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী, বোয়ালখালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। মেরুং ইউনিয়নের বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ এলাকা এবং সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে কবাখালী ইউনিয়নের মাইনী ব্রিজসংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-সাজেক সড়কেও যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি আমন ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বিভিন্ন অংশ দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের একাধিক স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় সড়ক ধসে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত এর আগে রেকর্ড হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, রাতভর বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে দীঘিনালা-লংগদু ও দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, আকস্মিক পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।


















