ঢাকা-১৩ আসনের বসতি ও জনসংখ্যা বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে ২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে পৃথক দুটি থানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।
বুধবার রাজধানীর বসিলা এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে আয়োজিত ‘মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদপুর থানা ঢাকা শহরের অন্যতম বৃহৎ জনসংখ্যার এলাকা। বিশাল এই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বসিলা ও রায়েরবাজারের বাসিন্দাদের জন্য পৃথক দুটি থানা কার্যকর করার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে থানা দুটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
কেরানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অপরাধীরা বসিলা বা মোহাম্মদপুরে এসে অপরাধ করে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বসিলা ব্রিজ এলাকায় শক্তিশালী বিট পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি, এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি মোহাম্মদপুরে শিগ্গিরই একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম নেই। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি হবে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর, নিবন্ধন ও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু অফিসে বসে বা সংসদে কথা বললেই দায়িত্ব শেষ হয় না, মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের জীবনযাপনের বাস্তব সমস্যা শুনতে হবে। ঢাকা-১৩ আসনকে নিরাপদ, আধুনিক ও আদর্শ আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। মতবিনিময়কালে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী এসব বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।



















