জেলা শহরের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথে নির্মিত দু’টি সেতু ২ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু দু’টি এখনো যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত সেতু দু’টি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো সরু সেতু দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
গাইবান্ধা জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, জেলা শহরের যানজট কমাতে এবং পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর বিকল্প হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দু’টি নতুন সেতু নির্মাণ করে। একটি সেতু গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর নির্মিত ‘ঘাঘট-২ সেতু’, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬ মিটার। অপরটি গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কের পুলবন্দি এলাকায় নির্মিত ‘আলাই সেতু’, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মিটার। দু’টি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৪ সালের জুনে তা সম্পন্ন হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তবে সেতু দু’টি প্রস্তুত হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় এগুলো এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে নতুন সেতুর দুই প্রান্তে রাস্তা না থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা পুরনো, সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোই ব্যবহার করছেন।
যাতায়াতকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেতুগুলো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তারা আরও আশঙ্কা করছেন পুরনো সেতুগুলো যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধা পৌর শহরে আলাই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত। যেটি দিয়ে ফুলছড়ি ও জেলা শহরের একমাত্র যাতায়াতের ব্যবস্থা। নির্মিত সেতুর পাশেই বহু বছরের একটি সরু অকোজো ব্রীজ। সেই পুরনো অকোজো ব্রীজ দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারীসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। শুধু সংযোগ সেতুর অভাবে ব্যয়বহুল নির্মিত সেতুটি মানুষের কাজে আসছে না। শহরের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির পাশেও পুরাতন একটি ব্রিজ দিয়ে গাইবান্ধা জেলা শহর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অসংখ্যা যানবাহনসহ পথচারীরা চলাচল করছেন। এই সেতুটি কাজ সম্পন্ন হলেও শুধু সংযোগ সড়কের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে দু’টি উপজেলার অসংখ্যা যানবাহন জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে এসে আটকা পড়ে। সেই জ্যামে নাকাল হয়ে পড়ছেন শহরবাসী।
গাইবান্ধা জেলা শহরের অটো চালক হুমায়ন মিয়া বাসস’কে বলেন, সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। শুধু মাত্র সংযোগ সড়ক না থাকায় নিউ ব্রিজ রোড এলাকার পুরাতন সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই নতুন সেতু চালু করা দরকার।
পুলবন্দি এলাকার শাহরিয়ার বলেন, নতুন সেতু চোখের সামনে, কিন্তু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পুরনো ভাঙা সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে মানুষদের। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক চালুর দাবি জানান।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বাসস’কে জানান, সেতু নির্মাণ শেষ হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ আটকে আছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।



















