
জাহিদুল ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর বুকে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধ পাথর উত্তোলনের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সংবাদকর্মীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় মামলা (নং-২১, তাং-২৭/০২/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
থানায় দায়েরকৃত মামলার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টেপাখড়িবাড়ি ও খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অর্ধশতাধিক বোমা মেশিন ও ইঞ্জিনচালিত শ্যালো বসিয়ে গভীর গর্ত করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে টেপাখড়িবাড়ি গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো,রিপন ইসলাম শেখ (২৭), গয়াবাড়ি গ্রামের মৃত মোশাররফ হোসেনের ছেলে মো,জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) এবং একই গ্রামের মৃত আকবার আলীর ছেলে মো, রজব আলী (৪০)।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে ডিমলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাদশা প্রামানিক (৫০) ও সংবাদকর্মী নুর মোহাম্মদ সুমন (৩০) তিস্তা বাজারের গ্রোয়েন বাঁধসংলগ্ন নদীর অভ্যন্তরে বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলনের ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। ফেরার পথে উক্ত বাঁধের মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছালে রিপন ইসলাম শেখ ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের আটক করে বেধড়ক মারধর করে। ধারালো ছোরা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের ব্যবহৃত ভিভো এস-২০০ ও ভিভো ওয়াই-৪০ মডেলের দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৮৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এরপর হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ধাক্কাতে ধাক্কাতে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সন্নিকটে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করে এবং ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যাচেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও
স্থানীয়রা আহত দুই সংবাদকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আলী সরকার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কার্যকর অভিযান এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।