টুয়াখালীর দুমকী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত ২০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে সরকারি সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাহেরচর এলাকায় পায়রা নদীর তীরে ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। কোথাও নদীর কিনারে ঝুলে আছে বসতভিটার শেষ অংশ, আবার কোথাও ভেঙে পড়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। অনেকে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে, তাদের কেউ কেউ সরকারি সড়কের পাশে পলিথিন টাঙিয়ে বসবাস করছেন। সেখানে রান্নাবান্না, সংসারের জিনিসপত্র ও শিশুদের নিয়ে অনিশ্চিত জীবন কাটছে তাদের। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর নদীভাঙনে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাহেরচরে নদীভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। পায়রা নদীর ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার ভাঙন থেকে বাঁচতে জীবনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ঘর সরিয়েছে। তবে এবার অনেকের সামনে আর যাওয়ার মতো জায়গা নেই।
ভাঙনে সর্বস্ব হারানো নিটুলী রানী বলেন, “ইতোমধ্যে সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছি। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেছে। এখন রাস্তার পাশে থাকতে হচ্ছে। আর যাওয়ার কোনো জায়গা নাই, সব নদীতে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির খান বলেন, “অনেক মানুষ আইছে, অনেক কথা কইছি, কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। কেউ আমাগো দিকটা দেখে না।”
রিপন মাল বলেন, “বাপ-দাদার সময় থেকে ভাঙন চলছে। জীবনে পাঁচ-ছয়বার ঘর সরিয়েছি। এখন বাধ্য হয়ে বাজারে ভাড়া বাসায় থাকছি।” ৭৫ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার খান বলেন, “বারবার ভাঙনে এখন আমাদের কিছুই নাই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর থাকতে হচ্ছে।”
এদিকে ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ, মোল্লা বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদারের দাবি, বাহেরচর এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, “১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর ওপারে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন ওই জমি দখল করে রাখায় বাহেরচরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সেখানে যেতে পারেনি।”
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রাম রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”



















