বরিশাল নগরীতে আইনজীবী সহকারী মো. নুরুজ্জামান হাওলাদারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী নাছিমা বেগমের বিরুদ্ধে। পরকীয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নাছিমা বেগম পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নগরীর বাঘিয়া এলাকার ইছাকাঠী কলোনী গলীর একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্লাটে এ ঘটনা ঘটে। ওই ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী (মুহুরী) মো. নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫)।
নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে কুয়েত প্রবাসী।
পুলিশ ও বাড়ির মালিক জানান, ঘটনার সময় বাসায় নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নাছিমা বেগম ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। বাড়ির মালিক আহসান হাবিব জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে নাছিমা বেগম বাসা থেকে বের হয়ে তার ভাতিজির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি ভাতিজির হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।
পরে ভাতিজি তার স্বামীকে নিয়ে ওই বাসায় গেলে দরজা বন্ধ দেখতে পান। এরপর জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান তারা। পরে পুলিশ দরজা খুলে বিছানার ওপর নুরুজ্জামানের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়।
পুলিশ জানায়, নিহতের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, “ট্রিপল নাইনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভোররাতে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। বাড়ির মালিককে সঙ্গে নিয়ে তিনতলায় গিয়ে একটি কক্ষে নুরুজ্জামানের লাশ দেখতে পাই। রক্তাক্ত অবস্থায় লাশটি বিছানার ওপর পড়ে ছিল।”
তিনি বলেন, বাসায় নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে নাছিমা বেগম দুইবার বাসা থেকে বের হন। এ সময় তার হাতে থাকা একটি ব্যাগ তিনি ভাতিজির কাছে দিয়ে আসেন। পরে ওই ব্যাগ থেকে নিহতের মোবাইল, বাসার চাবিসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে।
সুশান্ত সরকার আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের ভেতর থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিশেষ করে নিহতের স্ত্রী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, অন্য এক নারীর সঙ্গে নুরুজ্জামানের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে পরিবারে বিরোধ চলছিল। সেই সম্পর্কের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, তা পলাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।



















