ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিত পোনা অবমুক্তের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। একই সঙ্গে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে সুলতানা সরোবরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘স্বপ্নকুঁড়ি’তে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নিয়মিত পোনা অবমুক্ত, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কুড়িগ্রামে মাছের ঘাটতি দূর হবে এবং জেলাটি মৎস্য উদ্বৃত্ত এলাকায় পরিণত হতে পারে। সভায় পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরাও জেলার ১৬টি নদ-নদীতে ব্যাপকভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় জানানো হয়, কুড়িগ্রামের প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর নদ-নদী দেশীয় মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্র। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভরাট এবং প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ও পোনা নির্বিচারে আহরণের কারণে অনেক দেশীয় মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে জেলায় বছরে ৪৯ হাজার ২০৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হলেও চাহিদা ৫১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে বছরে প্রায় ১ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. সাইফুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আজাদুন্নবী শামীম এবং ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ নাহিদ বক্তব্য দেন।
আলোচনা শেষে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকর জাল ব্যবহার না করার এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা পোনা মাছ পরিপক্ব হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



















