আমির ফায়সাল, জাবি প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কোষাধ্যক্ষ পদে সম্ভাব্য নাম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দীন। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্রশিক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে সম্ভাব্য দায়িত্বশীল প্রশাসক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন আন্দোলনেও তাকে দেখা গেছে সম্মুখ সারিতে। সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যূত্থানেও ছিলেন অকুতোভয় যোদ্ধা।
বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ হলের প্রভোস্ট, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC)-এর অতিরিক্ত পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন এবং একাধিক মেয়াদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় এই শিক্ষক জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে রয়েছেন।
একাডেমিক জীবনে অধ্যাপক বোরহান উদ্দীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরে নেদারল্যান্ডসের Wageningen University থেকে Molecular Life Science-এ মাস্টার্স এবং জার্মানির Heidelberg University থেকে Cell Biology-তে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তার পিএইচডি গবেষণায় মানব কোষে CDC14 phosphatase-এর কার্যকরী ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেখানে তিনি ‘Magna Cum Laude’ ফলাফল অর্জন করেন।
গবেষণাক্ষেত্রেও রয়েছে তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি। যুক্তরাজ্যের University of Bristol এবং যুক্তরাষ্ট্রের Washington University School of Medicine-এ গবেষণা-সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তার একাধিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের Q1 ও Q2 জার্নালে, যার মধ্যে PNAS, EMBO Reports এবং Journal of Cell Science উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে North South University ও Independent University Bangladesh-এ অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর হিসেবেও যুক্ত আছেন অধ্যাপক বোরহান উদ্দীন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষণা ব্যবস্থাপনা, মানোন্নয়ন কার্যক্রম এবং শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব—সব মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অঙ্গনে তার অবস্থান শক্তিশালী বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দীন বলেন”বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এখনো এটি নিশ্চিত নয়। সবার মতো আমিও প্রতযাশিত পদে আবেদন করেছি। যদি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাই, তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাইসহ সকলের অংশগ্রহণে দল-মত নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করাকে আমি অগ্রাধিকার দেব। গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে অর্থায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কলযানে কাজ করব”
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রশাসনিক দক্ষতা, আর্থিক স্বচ্ছতা বিষয়ে অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষক রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে কোষাধ্যক্ষ পদে তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।



















