সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
মোতাহের উদ্দিন, চবি প্রতিনিধি:
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করেছে চাকসুর প্রতিনিধিরা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর আইন অনুষদ ভবন এলাকা থেকে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
জানা যায়, শনিবার চবিতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় আইন অনুষদে দায়িত্বে ছিলেন হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি আইন অনুষদে যান। এ সময় চাকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
চাকসু সূত্রে জানা গেছে, চাসর আইন সম্পাদক ফাজলে রাব্বি তাওহীদ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান তাকে আটক করেন।
চাকসু প্রতিনিধিদের অভিযোগ, হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের ‘শিবির ট্যাগ’ দিয়ে হেনস্তা করা, শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রুপ সিএফসির পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং নিজ বাসায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মদের আসর বসানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফাজলে রাব্বি তাওহীদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়ে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। শিক্ষার্থীরা তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং এ সময় পড়ে গেলে তাকে আটক করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আগেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় সম্প্রতি তার বেতনও বন্ধ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, “আমি কোনো মৌন মিছিলে অংশ নিইনি। কেউ যদি তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন সাবেক বিচারক ও আইনের শিক্ষক। জুলাই আন্দোলনে কোথাও আমি অংশ নিয়েছি—এমন কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।”
শিক্ষার্থী বহিষ্কারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কীভাবে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করব? আমি কি বোর্ড অব রেসিডেন্সের সদস্য ছিলাম? পদাধিকার বলে সদস্য হতে হয়। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।
2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩