নাজমুল হাসান, দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তিতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পৌরসভার ৩৭ নং ভিংলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রহিমা বেগমকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
এ বিদায়ী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। হাফেজ ওমর ফারুকের পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সারোয়ার আলম সোহেল এবং মানপত্র পাঠ করেন জোহরা ফেরদৌসী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব রকিবুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হারুনর রশীদ মাস্টার, জমির উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক ৩৭নং ভিংলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেলিনা আক্তার, প্রধান শিক্ষিকা, মরিচাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনুফা বেগম, প্রধান শিক্ষিকা, বিজলিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সহ শিক্ষা বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল করিম মাস্টার, ইসমাইল হোসেন, বসির উদ্দিন সরকার, আবুল খায়ের, মামুনুর রশীদ, সাংবাদিক জালাল আহমেদ, ইব্রাহিম মিয়া, শরিফ আহমেদ, আলম মিয়া, নাজমুল হাসান সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, সহকারী শিক্ষিকা রহিমা বেগম তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষাদানে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি শিক্ষকতাকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, বরং এক মহান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
জানা যায়, রহিমা বেগম ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে তিনি ৩৭ নং ভিংলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ সময় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৫ সালে সরকারি বিধি অনুযায়ী অবসর গ্রহণ করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে রহিমা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন এবং সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। বিদায়ী এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।



















