নবীনগরে এলপিজি গ্যাসের দামে অনিয়মের অভিযোগ

আরিফুর ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির কারণে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থির রাখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীনগরে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার সিলিন্ডার হলেও বিভিন্ন কোম্পানি সময়বিশেষে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়িয়ে দেয়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নবীনগর উপজেলায় বসুন্ধরা, বিএম, ডেলটা, ইউনিক, জি, ওমেরা, পেট্রোমেক্স, পদ্মা, সান জিএমআই, ওরিয়নসহ প্রায় ১৭টি কোম্পানির এজেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজেন্টদের দাবি, তারা কোম্পানি থেকে নির্ধারিত দামে গ্যাস কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা লাভে বিক্রি করেন। তবে খুচরা পর্যায়ে সেই দাম আরও বাড়িয়ে সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা যোগ করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত লাভের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। ফলে রান্নার গ্যাস কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ২৫৩ টাকা। আগের মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ২১৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে দাম বেড়েছে ৩৮ টাকা। যদিও বাস্তব বাজারে নির্ধারিত এই মূল্য কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিইআরসির হিসাব অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১০৪ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

এলাকাবাসীর দাবি, গ্যাস কোম্পানির এজেন্ট ও খুচরা বিক্রেতাদের দামের কারসাজির বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি না বাড়ালে সাধারণ ভোক্তারা এভাবেই প্রতারিত হতে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *