বগুড়া মহানগরে অনুমোদনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করায় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ এসব যানবাহনের কারণে সড়ক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও চাপে পড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতমাথা, বড়গোলা, নিউমার্কেট, সাতানি বাড়ি, কাঁঠালতলা, ইয়াকুবিয়া মোড়, থানা রোড, ফতেহ আলী বাজার, চেলোপাড়া, জলেশ্বরীতলা কালীবাড়ি ও নতুন প্রেস ক্লাব এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট লেগেই থাকে। যত্রতত্র পার্কিং ও বেপরোয়া চলাচলের কারণে পথচারীরাও দুর্ভোগে পড়ছেন।
বগুড়া সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, মহানগরে বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যদিও শহরের সড়ক অবকাঠামো সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় হাজার অটোরিকশা চলাচলের উপযোগী। এসব যানবাহনের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। পৌরসভা থেকে একসময় ৬ হাজার ৩৬৩টি প্যাডেল রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হলেও ২০১৯ সালের পর আর কেউ তা নবায়ন করেননি।
ট্রাফিক বিভাগ বলছে, বগুড়ায় ইজিবাইক, অটোরিকশা, চার্জার রিকশা ও ভ্যানসহ লক্ষাধিক বৈদ্যুতিক যান চলাচল করছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, নগরে ছয় শতাধিক অনুমোদিত চার্জিং গ্যারেজ থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক গ্যারেজে রাতের বেলায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের চাপও বাড়ছে।
নেসকোর একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তাদের মতে, এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতোয়ার রহমান বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। তবে অনুমোদনের তুলনায় প্রায় ৫০ হাজার অটোরিকশার চলাচল এবং সড়ক দখল করে পার্কিং করাই যানজটের প্রধান কারণ। এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।



















