রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে তিন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সংশ্লিষ্ট সনদ ভুয়া বলে নিশ্চিত করার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রায়পুর ইউনিয়নের চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিষয়ের শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম, কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক মো. শফিকুল্লাহ সরকার এবং সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মোছা. আফরুজা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করে আসছেন। তারা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দীর্ঘদিনের সভাপতি সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরীর সময়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানের শ্বশুর বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘দারুল এহসান’ থেকে অর্জিত কথিত বিএড সনদের ভিত্তিতে মোস্তাফিজার রহমানকে ২০১১ সালে চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ২০২৩ সালে প্রধান শিক্ষক পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঁন্দের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, নিবন্ধন ও এমপিওভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রংপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন নিজেই বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ, নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে প্রধান শিক্ষক তা দেখাতে ব্যর্থ হন বলে জানা গেছে। ফলে শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিবন্ধনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও কেন অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘আমার কাগজপত্র সঠিক আছে।’
সভাপতি সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরী বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী সবকিছু করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলা শিক্ষা অফিসার এনায়েত হোসেন বলেন, ‘এখনো তদন্ত চলছে, অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে।’



















