বিদেশে অবস্থানরত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না বলে জানিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বিরোধী দল সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বেনজীরসহ বিদেশে পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের আনা প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত প্রস্তাবে জানতে চাওয়া হয়, বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইয়ে জামিন পেলেন, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির তদন্ত ও দেশে-বিদেশে তাঁর অবৈধ সম্পদ জব্দে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজীরসহ বিদেশে থাকা পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়। ২০২৬ সালের ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়ার পর চার দিনের মধ্যেই কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়। ইউএইর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিপত্রও পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার জন্য একটি ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় দেশটির আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় গেছেন—এমন তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ইউএই কর্তৃপক্ষও এ ধরনের কোনো তথ্য জানায়নি।
আলোচনায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সরকারের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বেনজীরসহ বিদেশে পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে আরও জোরালো কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।



















