বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের খানপুরা-উত্তর রহমতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের একমাত্র বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৩২টি পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে তারা এখন কলাগাছের ভেলায় করে রাজারবের খাল পার হচ্ছেন এবং দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
রাজারবের খালের ওপর নির্মিত বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল। দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর সম্প্রতি সেটি ভেঙে পড়ায় সরাসরি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে।
সাঁকো না থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বাজারে যাওয়া মানুষ এবং চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে বাইরে যাওয়া বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা কলাগাছের ভেলা তৈরি করে খাল পারাপার করছেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কাওছার মৃধা বলেন, রাজারবের খালের ওপরের সাঁকোটিই ৩২ পরিবারের দ্রুত যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর কলাগাছের ভেলায় চলাচল করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বাজার, চিকিৎসা এবং সন্তানদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য খাল পার হতে হয়। সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর কলাগাছের ভেলাই তাদের একমাত্র ভরসা। তিনি জানান, কিছুদিন আগে এক গৃহিণী ভেলা থেকে পড়ে আহত হন এবং পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি পরিবারের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য সাঁকোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাই দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, সেতু নির্মাণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা সাঁকোটির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তার নজরে এনেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















