Wednesday , 2 September 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অপরাধ
  3. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  4. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আফ্রিকা মহাদেশ
  8. আবহাওয়া
  9. ইউরোপ মহাদেশ
  10. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  11. এক্সপ্লেইনার
  12. এশিয়া মহাদেশ
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট

কোর্ট ম্যারেজ কি ইসলামে বৈধ?

প্রতিবেদক
ধর্ম ডেক্স
September 2, 2026 1:54 pm

বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পারিবারিক সম্মতির বাইরে কিংবা আইনি সুরক্ষার জন্য ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা আদালতভিত্তিক বিয়ের প্রবণতা বেড়েছে। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আদালতের কাগজে স্বাক্ষর বা অ্যাফিডেভিট করলেই শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয় না। তবে শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে কোর্ট ম্যারেজ করা হলে তা অবৈধও নয়। মূল বিষয় হলো, বিয়ের প্রয়োজনীয় উপাদান ও শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ হয়েছে কি না।

বাংলাদেশে প্রচলিত অর্থে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বলতে সাধারণত আদালতে গিয়ে আইনজীবীর উপস্থিতিতে অ্যাফিডেভিট বা হলফনামা সম্পাদন করাকে বোঝানো হয়। তবে এটি নিজে ইসলামি বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি নয়।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শুধু কাগজে স্বাক্ষর বা হলফনামা সম্পাদন বিয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পক্ষ থেকে ইজাব ও কবুল বা প্রস্তাব ও গ্রহণ মুখে উচ্চারণ করতে হয়। কথা বলার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু লিখিত সম্মতি জানালে ইসলামি বিধান অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হবে না।

কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে শরিয়তের শর্ত পূরণ করা হলে তা বৈধ হতে পারে। বিয়ের সময় ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি এবং অন্যান্য শরিয়তি শর্ত পূরণ করা জরুরি। মুসলিম ছেলে-মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে অন্তত দুজন মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে উকিল বা কাজি শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে বিয়ে পড়ালে এবং বর-কনে তা কবুল করলে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

শুধু ছেলে-মেয়ের পারস্পরিক সম্মতি বা কাগজে স্বাক্ষর ইসলামি বিয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। যদি অ্যাফিডেভিট করার সময় ইজাব-কবুল সম্পন্ন না হয়ে থাকে বা প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত না থাকেন, তাহলে শুধু ওই কাগজের ভিত্তিতে বিয়ে হয়েছে বলে ধরা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় বিয়ে পড়াতে হবে।

কোর্টে বিয়ে করলে তা শরিয়ত সম্মত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হলে দেখতে হবে— বিয়ের সময় ইজাব ও কবুল হয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন কি না এবং শরিয়তের অন্যান্য শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না।

যদি কোর্ট ম্যারেজের প্রক্রিয়ায় যথাযথ সাক্ষী উপস্থিত থাকে, মোহরানা নির্ধারণ করা হয় এবং শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী ইজাব-কবুল সম্পন্ন হয়, তাহলে আইনগত সুরক্ষার জন্য করা এ ধরনের বিয়ে ইসলামে বৈধ হতে পারে।

অন্যদিকে, পরিবারকে সম্পূর্ণ গোপন রেখে, প্রয়োজনীয় সাক্ষী ছাড়া কিংবা শুধু কাগজে স্বাক্ষর ও হলফনামার মাধ্যমে যে সম্পর্ক তৈরি করা হয়, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে তার ভিত্তি নেই। এমন কাগুজে চুক্তিকে ইসলামি বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয় না।

তাই আইনি সুরক্ষার জন্য কোর্ট ম্যারেজ করা হলেও বর-কনে উভয়ের উচিত ইসলামি শরিয়তের মূল শর্ত ও নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করা। বিয়ের বৈধতা নির্ভর করে শুধু আদালতের কাগজ নয়, বরং শরিয়তের নির্ধারিত বিধান পূরণের ওপর।

সর্বশেষ - আইন-আদালত