জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে জলবায়ু-সহনশীল একটি **ডিজিটাল ই-হেলথ সিস্টেম** গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমন্বয়ে এ বিষয়ে কাজ চলছে।
বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত **‘প্রকৃতি ও স্বাস্থ্য: জলবায়ু-সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা’** শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউএনওপিএস বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবার ওপর যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে, তা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আধুনিক চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বন্যাপ্রবণ ও দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন একটি প্রস্তাবও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু মোবাইল মেডিকেল ভ্যানের ওপর নির্ভর না করে নৌকা-ভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল বা **বোট-বেসড মোবাইল হাসপাতাল** চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষ সহজেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
এ সময় নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে **‘চর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’** গঠনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠন সময়ের দাবি।



















