আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি)।
ঈদের ব্যস্ত বেচাকেনার সময়ে জাল নোটের প্রচলন ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে দেশজুড়ে পশুর হাটে নিরাপদ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি সমন্বিত কার্যক্রম কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, পশুর হাট চালু হওয়ার দিন থেকে ঈদুল আজহার আগের রাত পর্যন্ত বুথগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য নোট যাচাই ও টাকা গণনার সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি বুথে আধুনিক নোট গণনা ও জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন রাখতে হবে। পাশাপাশি জাল নোট শনাক্তে দক্ষ অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রাখতে হবে।
জনসচেতনতা ও সহজ শনাক্তকরণের জন্য প্রতিটি বুথে দৃশ্যমানভাবে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংককে একজন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পর্যায়ের কর্মকর্তাকে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।
যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে সোনালী ব্যাংক পিএলসি তাদের চেস্ট শাখার মাধ্যমে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, বুথে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের অতিরিক্ত দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসেবে উপযুক্ত ভাতা ও আর্থিক সুবিধা দিতে হবে।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ, রযাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসারের সহযোগিতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
জাল নোট শনাক্ত হলে বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নীতিমালা অনুযায়ী, সন্দেহজনক জাল নোট সঙ্গে সঙ্গে জব্দ করতে হবে এবং নোট উপস্থাপনকারীর স্থানীয় ও স্থায়ী ঠিকানাসহ পূর্ণ পরিচয় সংরক্ষণ করতে হবে।
এ ছাড়া নোটটির উৎস সম্পর্কে বক্তব্য নিতে হবে এবং জব্দ করা নোটের উল্টো পাশে উপস্থাপনকারীর স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে।
পরে নোটটির ওপর লাল কালি দিয়ে ‘জাল’ বা ‘নকল’ সিল দিতে হবে। যদি ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন, জেনে-শুনে জাল নোট উপস্থাপন করা হয়েছে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠাতে হবে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জনসচেতনতা বাড়াতে সব ব্যাংক শাখাকে ব্যাংকিং সময়জুড়ে মনিটরে আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসংবলিত ভিডিও প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদ কার্যক্রম শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথের কার্যক্রম ও ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিভাগে জমা দিতে হবে।
রাজধানীর বড় পশুর হাটগুলোতে বুথ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংককে দায়িত্বও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটে দায়িত্ব পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি।
সারুলিয়া বাজারে দায়িত্ব পালন করবে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি ও উত্তরা ব্যাংক পিএলসি।
উত্তরা দিয়াবাড়ি সেক্টর ১৬ ও ১৮ এলাকায় বুথ পরিচালনা করবে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক।
মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার এলাকায় দায়িত্বে থাকবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় বুথ পরিচালনা করবে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি ও মেঘনা ব্যাংক পিএলসি।
শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পেয়েছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি এবং গোলাপবাগ মাঠ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি বাণিজ্যিক কার্যক্রম ঈদুল আজহার পশুর হাটে ব্যবসায়ী, খামারি ও সাধারণ ক্রেতাদের আর্থিক প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
ব্যাংক, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে সহজলভ্য যাচাইসেবা নিশ্চিত করে ঈদুল আজহার পশুর হাটে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।



















