ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব প্রদেশে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের তাণ্ডবে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এই হামলায় আরও ২৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইয়েমেন সরকারের এক মন্ত্রী ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
সামরিক সূত্র জানায়, মারিবের সামরিক শিবিরগুলো লক্ষ্য করে ১০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭টি সুইসাইড (একমুখী) ড্রোন দিয়ে দফায় দফায় হামলা চালায় হুথিরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সাহন আল-জিন শিবিরে চালানো এই হামলায় সরকারি বাহিনীর ৮ সদস্য নিহত ও ১২ জন আহত হন।
এদিকে, হুথি বিদ্রোহীরা আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরেও গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্প লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ২ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
হামলার দায় স্বীকার করে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, “সৌদি শত্রুপক্ষ তাদের বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে উসকানি দিচ্ছিল। সাহন আল-জিন শিবিরে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।”
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুথি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যা গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায়। এরপর থেকেই মারিব দখল করতে হামলা জোরদার করেছে বিদ্রোহীরা। গত বৃহস্পতিবারও মারিবে হুথিদের এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারি বাহিনীর ৫৮ সদস্য প্রাণ হারান।
পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ। এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, “২০২২ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে বর্তমান সময়ে ইয়েমেন সবচেয়ে বড় ধরনের পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি উভয় পক্ষকে চরম সংযম প্রদর্শন এবং সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।
অন্যদিতে, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, তারা হুথিদের এই আগ্রাসন চুপচাপ মেনে নেবে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি সতর্ক করে বলে, “জোট নিজে থেকে উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে মারিব আমাদের জন্য ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। হুথিরা মারিব দখল করে নেবে—সৌদি কর্তৃপক্ষ তা কোনোভাবেই হতে দেবে না।”
মারিব অঞ্চলটি ইয়েমেন সরকারের শেষ প্রধান ঘাঁটি এবং দেশটির জ্বালানি সম্পদের মূল কেন্দ্র হওয়ায়, অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলছে।



















