জেলার তিন উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানের ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে | জেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ | বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন ধানের শিষ| ফসলের মাঠে সবুজ বর্ণ থেকে ধান পেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করা শুরু হয়েছে| কোথাও কোথাও আগাম লাগানো ধান আগে পেকে যাওয়ায় ধান কাটা শুরু হয়েছে |
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার বাসসকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ৮ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে| আর মাত্র কয়েক দিন পরই কৃষকের উঠান ভরে উঠবে সোনালি ধানে| ভরে উঠবে ধানের গোলা| মুখে ফুটবে স্বস্তির হাসি |
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নড়াইলের তিন উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৫০ হাজার ৩০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে| এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৩৪৬ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ১০ হাজার ৩৩৭ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ১৬ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে| আবাদ হওয়া জমি থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ।
কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক রিফায়েত শেখ বাসসকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমি ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি| ফলন ভালো হয়েছে | বোরোর বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং সেচের কোনো ঘাটতি না থাকায় বোরো ধান চাষে কোনো সমস্যা হয়নি |’
সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন| আবার কোথাও কোথাও পাকা ধান কাটতে শুরু করছেন কৃষকরা| গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড দাবদাহেও ঘরে বসে নেই তারা| রৌদ্র তাপ উপেক্ষা করে ভোর থেকে মাঠে গিয়ে ধান কাটছেন |
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, বোরো মৌসুমের শুরু থেকে আমরা কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি| যাতে তারা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে| এছাড়া ফসলের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শও দেওয়া হয়েছে| সরকারের প্রণোদনা হিসেবে দেয়া বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেয়ে কৃষকরা বোরো ধান চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বোরো আবাদে কৃষকদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে| চারা রোপণ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত কৃষকদের পাশে আছে কৃষি বিভাগ| ধান সম্পূর্ণ কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে| কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য|
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বোরো ধান একটি প্রধান শীতকালীন ও রবিশস্য| যা সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে রোপণ করা হয় এবং এপ্রিল থেকে জুন মাসে কাটা হয়| এই মৌসুমের ধান দেশের মোট ধান উৎপাদনের একটি বড়ো অংশ জুড়ে থাকে| যা আবাদ ও সেচের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ও পানি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।
সরকার সাধারণত এই মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে ধান-চাল সংগ্রহ করে থাকে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে এবং চাল ৪৯ টাকা দরে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।



















