জনপদ সংবাদ

সত্য প্রকাশে নির্ভীক

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে ডিমলায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

মো: জুয়েল রানা, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর ডিমলায় মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) ঠাকুর দাস রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (অব.) প্রভাষক আবুল কাশেম সরকার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) মামুনুর রশিদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডিমলা সদর ইউনিয়নের আমির নুরমোবাশ্বের হোসেন, জামায়াত নেতা মিনানুরজ্জামান মিন্টু, এনসিপি নেতা শাকিল প্রধান, রাশেদুজ্জামান রাশেদ, মজিবুল, সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মাহবুব খান, বিএমআই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হবে। এছাড়াও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ভাষা শহীদদের স্মরণে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগকারী ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *