রংপুরের পীরগাছায় জন্ম থেকেই দুই মাথাবিশিষ্ট ১৫ মাস বয়সী এক শিশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বসতভিটা ছাড়া প্রায় সব জমি বিক্রি করে এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন শিশুটির বাবা-মা।
পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাদন গ্রামের সাকোয়ার বিল এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম পেশায় একজন সাইকেল মেকানিক। চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছেলে মুসলিম উদ্দিন জন্ম থেকেই দুই মাথাবিশিষ্ট। পরিবারের ভাষ্য, শিশুটির মাথার আকার দিন দিন বড় হচ্ছে এবং ব্যথার কারণে সে প্রায়ই দিন-রাত কান্নাকাটি করে। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও এখন অর্থসংকটে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়জন। শিশুটির চিকিৎসা চালাতে গিয়ে প্রায় ৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ শতাংশই বিক্রি করে দিয়েছেন রবিউল ইসলাম। বর্তমানে মাত্র ১ শতাংশ জমির ওপর ছোট একটি ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। চৌধুরানী বাজারে একটি ছোট সাইকেল মেরামতের দোকানই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। সেই সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
রবিউল ইসলাম বলেন, ছেলেকে সুস্থ করার আশায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য জমি বিক্রি করতে হয়েছে। এখন সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, শিশুটির চিকিৎসায় প্রায় চার লাখ টাকা প্রয়োজন, যা সংগ্রহ করার সামর্থ্য তাঁর নেই। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেন। অন্যদিকে শিশুটির মা তাছলিমা আক্তার জানান, অর্থাভাবে বর্তমানে সন্তানের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে তিনি সবার সহায়তা চেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ভানু বেগম, হাবিবা আক্তার ও আমিনুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তারা শিশুটির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, পরিবারটি এখন পর্যন্ত তাঁর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি অনুদান ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।



















