সুস্থ থাকার আশায় অনেকেই সকালে গরম পানির সঙ্গে আদার রস পান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ দূর করার উপায় হিসেবে প্রচার করা হলেও, এর পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় দেখা গেছে, আদার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। বিশেষ করে বমিভাব ও বমি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। গর্ভাবস্থায় বমিভাব নিয়ন্ত্রণেও আদার কার্যকারিতার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া হজমের অস্বস্তি কমাতেও আদা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য ও প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব উপকারকে শরীরের ‘ডিটক্স’ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক নয়।
গরম পানি শরীরে প্রয়োজনীয় তরল সরবরাহ করে এবং অনেকের জন্য এটি আরামদায়ক পানীয় হিসেবে কাজ করে। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গরম পানির সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলেই শরীরে জমে থাকা টক্সিন দ্রুত বের হয়ে যায়— এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
আদা সাধারণ খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে আদা খেলে পেটে অস্বস্তি, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া কিংবা মুখ ও গলায় জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে আদার ঘন রস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
শরীর সুস্থ রাখতে কোনো বিশেষ ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ঘুম এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখাই স্বাস্থ্যকর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই গরম পানি ও আদা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে এটিকে শরীর দ্রুত পরিষ্কার করার নিশ্চিত উপায় বা কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।



















