থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বার ও রেস্তোরাঁয় রোববার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে ছুটে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, তিনি সোমবার সকালে রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত রং বিয়ার না লাত ফ্রাও বার ও রেস্তোরাঁর বাইরে কয়েকটি মরদেহবাহী ব্যাগ দেখতে পান। তিনি বলেন, এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী কাজ করছিলেন।’
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ব্যাংককের গভর্নর চাডচার্ট সিত্তিপুন্ত সাংবাদিকদের জানান, আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তার ধারণা, ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
গভর্নর আরও জানান, কয়েকটি মরদেহ একটি জরুরি নির্গমন পথের কাছে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই পথটি কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল, যার ফলে অনেকেই বের হতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক সুরিন জাইহার্ন বলেন, তিনি বারটির মূল দরজা দিয়ে আগুন রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন এবং দগ্ধ অন্তত পাঁচজনকে উদ্ধার করতে সহায়তা করেছেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুবই মর্মাহত। অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের উদ্ধার করেছি, তাদের কী হয়েছে তা জানি না।’
তিনি জানান, আহতদের শরীরে জ্বলতে থাকা আগুন কাপড় দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেছি এবং আরেকজন চালক এক নারীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা লাওসের পর্যটক কান কুতিরাত বলেন, রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি বারে ছিলেন। হঠাৎ মঞ্চের পাশ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেন এবং মুহূর্তেই চারদিকে চিৎকার ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, ওই ভিডিওতে দেখা যায় পোশাকে আগুন লেগে যাওয়া কয়েকজন মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন।
কান বলেন, ‘জীবনে এমন ঘটনা কখনও আমি দেখিনি। সেই দৃশ্য এখনো চোখে ভাসছে।’
তিনি তার ওই পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমি কেবল একজনকে বের করে আনতে পেরেছি। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি দুঃখিত।’



















