জয়নাল আবেদীন জহিরুল, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১০১ জন কোরআনের হাফেজকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ইসলামি ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ আব্দুস ছামাদ। ইসলামি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খোকন মোহাম্মদ রিয়ান ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শরিফ বিন আব্দুল কুদ্দুসের যৌথ সঞ্চালনায় এবং পরিষদের সভাপতি মামুন হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন মাওলানা আসরাফুজ্জান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ, প্রভাষক জহিরুল ইসলাম জহির, বংশীকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছুদ্দিন, দক্ষিণ উড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিউল কিবরিয়া তালুকদার, নোয়াগাঁও দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
এছাড়া ইসলামি ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাখিব হোসেন, সাফায়েত উল্লাহ, জিহাদুল ইসলাম ও নাফিজ আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, কোরআনের হাফেজরা পবিত্র কোরআনের ধারক ও বাহক। তারা সমাজের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম কোরআন শিক্ষার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
তারা আরও বলেন, পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই কোরআনের আলো সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ১০১ জন কোরআনের হাফেজকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় সংবর্ধনাপ্রাপ্ত হাফেজ ও তাদের অভিভাবকদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ইসলামি ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, কোরআনের হাফেজদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে তাদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত অতিথিরা এ আয়োজনকে মধ্যনগরে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।


















