চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় প্রদক্ষিণ করে আলাওল হল ঘুরে ২ নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের “একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর”, “জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো”, “গুপ্তবাহিনীর আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিব না” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়
মিছিলে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, অতীতে যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের পরিচয় এখন উন্মোচিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে “গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম” নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বিভিন্ন বিতর্কিত শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে যেকোনো সংগঠন এগিয়ে এলে ছাত্রদল তা প্রতিহত করবে। প্রকাশ্যে রাজনীতি করা স্বাভাবিক হলেও “গুপ্তভাবে” কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অন্যদিকে একই দিনে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে আলাওল হল ও এএফ রহমান হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা “আমার ভাই আহত কেন, তারেক তুই জবাব দে”, “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়”, “সন্ত্রাসীদের রুখে দাও ছাত্রসমাজ”, “অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, সিটি কলেজে সংঘটিত হামলা নৃশংসতার উদাহরণ, যা অতীতের সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তি।
সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ বলেন, ২০০৯ সালের পর যারা সারা দেশে নৃশংসতা চালিয়েছে, তাদের নেতৃত্ব এখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে আরেকটি দল ক্ষমতায় এসে একই ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি করছে, যার প্রতিফলন সাম্প্রতিক হামলায় দেখা গেছে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম রনি বলেন, সিটি কলেজের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে আবারও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন একসঙ্গে কাজ করলেও বর্তমানে বিভাজন ও পারস্পরিক অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
তিনি দ্রুত হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান এবং সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।



















