মোঃ সোহাগ আহমেদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছের প্রজনন ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে, যা চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাগরে কোনো ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ এবং সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে জরিমানা, জেল-জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছর এই সময়টিতে অধিকাংশ সামুদ্রিক মাছ ডিম ছাড়ে। ফলে এ সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। সমুদ্রে টহল জোরদার করা হবে এবং কোনো জেলে নির্দেশনা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, দীর্ঘ সময় মাছ ধরতে না পারায় জেলেদের জীবিকায় সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখার কথা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



















