
এম এ জুনেদ, গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কিছুটা কাটাতে একযোগে ৮ জন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে নতুন করে ৬ জন মেডিকেল অফিসার, ১ জন ডেন্টাল সার্জন ও ১ জন সহকারী সার্জন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নতুন চিকিৎসকরা এখানে যোগদান করেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডা. মো: রায়হান উদ্দিন এবং ডেন্টাল সার্জন হিসেবে ডা. দ্বীপান্বিতা ভদ্র সুষ্ঠি যোগদান করেন। এছাড়া ২৬ ফেব্রুয়ারি সহকারী সার্জন হিসেবে ডা. রিজবী রুবাইয়া যুথী যোগ দেন। একই দিনে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন ডা. নুসরাত সুলতানা, ডা. সেজানা খান, ডা. মো: তাশদীদ কবির, ডা. মোঃ শাহবাজ শাহরিয়ার ও ডা. তানজিনা সুলতানা।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসারের অভাবে রোগীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। নতুন চিকিৎসকদের যোগদানের ফলে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ডেন্টাল সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. সারওয়ার আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট ছিল। নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করায় রোগীরা এখন আরও নিয়মিত ও মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন। তবে চিকিৎসক বাড়লেও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
তিনি জানান, চিকিৎসকদের আবাসন সংকট একটি বড় সমস্যা। সরকারি কোয়ার্টারের বাইরে বাসা পাওয়া যায় না বললেই চলে। আবাসন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য আগেই চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ কোয়ার্টার না থাকলে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা চিকিৎসকদের দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকট ও রোগীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত বাথরুমের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ল্যাব টেকনোলজিস্ট না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেবা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত আবাসন, পানি ও স্যানিটেশন সমস্যার সমাধান এবং ল্যাব টেকনোলজিস্ট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।