বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। একই সঙ্গে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাজধানীর রাজারবাগ-সবুজবাগ এলাকার শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির মাঠে শনিবার আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষের বা এলাকার ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও অপরাধীদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
হাবিবুর রশিদ বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যাকে ধরতে হয়, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করবেন না। সে যেই হোক, তাকে ধরবেন, চালান দিয়ে দেবেন। আমরা তার শাস্তি চাই।’ তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে হবে না; মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। এমন ব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো নেতা অপরাধীদের রক্ষা করলে তাকে চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি, তাই উন্নয়নকাজও চলমান রয়েছে। তিনি জানান, ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালামের দায়িত্ব গ্রহণের পর মানিকনগর, ধলপুর-মুগদা হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক এবং বাসাবো-মাদারটেক সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। সীমিত বাজেটের মধ্যেও এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার জন্য তিনি ডিএসসিসি প্রশাসকের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু পবন দাস, সাধারণ সম্পাদক বাবু গুরু দাস এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



















