দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলতে সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তাঁর ভাষ্য, শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রোববার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান অবহেলা ও জনবল সংকটের মুখে পড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যখাতেও নানা ধরনের কাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং চলতি বাজেটে এ খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকার বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন ধারার প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়। সেই লক্ষ্যেই সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫০টি অধ্যাপক পদ এবং সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের আরও প্রায় ১৫০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা গেলে চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
সভায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘চিকিৎসক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান। প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবার খোঁজখবর নেন।



















