যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আগামী মঙ্গলবার কাতারে বৈঠকে বসবে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে আসছে। যদিও গত ১৭ জুন উভয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল সংঘাতের অবসান ঘটানো। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রাজি হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে সম্মত হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে রোববার এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সামরিক হামলা বা ‘কাইনেটিক অ্যাক্টিভিটি’ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
অ্যাক্সিওসকে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘আপাতত উভয় পক্ষই সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকবে। ফলে জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।’ তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র মঙ্গলবার কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আপাতত উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকবে।’
তিনি আরও জানান, পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিতে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান আবার হামলা শুরু করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় যুদ্ধে ফিরতে বাধ্য করে, তাহলে ‘ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্রঃ বাসস



















