ভরা মৌসুমেও বাগেরহাটের কেবি মৎস্য বাজারে ইলিশের সরবরাহ নেই বললেই চলে। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের বড়ো একটি দাতিনা মাছ, যা বৃহস্পতিবার ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাটের কচুয়া গ্রামের জেলে ইলিয়াস মাঝি মৌসুমের শুরু থেকেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছেন। তবে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তিনি ও তাঁর ট্রলারের জেলেরা লোকসানে রয়েছেন। সম্প্রতি মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যান ইলিয়াস মাঝি। একপর্যায়ে তাঁর জালে উঠে আসে ২২ কেজি ওজনের দাতিনা মাছটি।
মাছটি নিয়ে সারারাত ট্রলার চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কেবি মৎস্য বাজারের আড়তে পৌঁছান ইলিয়াস মাঝি। মাছটি দেখতে সকাল থেকেই বাজারে শত শত মানুষ ও পাইকারের ভিড় জমে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও বড়ো আকারের মাছটি ঘিরে বাজারে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।
কেবি বাজারের হাজি মিরাজের আড়তে মাছটির দর ওঠে। আড়ত সূত্রে জানা যায়, প্রতি মণ মাছের দর ওঠে ৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২২ কেজি ওজনের দাতিনা মাছটি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। হাজি মিরাজের আড়ত থেকে মাছটি কিনে নেন পার্শ্ববর্তী আড়তদার হারুন মীর। তিনি বলেন, মাছটির কেজিপ্রতি দাম পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। অধিক মুনাফার আশায় মাছটি চট্টগ্রামের ফিশারিজ ঘাটে পাঠানো হবে।
হারুন মীর বলেন, মাছটি শেষ পর্যন্ত বিদেশেও পাঠান হতে পারে। এত বেশি দামে সাধারণ মানুষের পক্ষে এ মাছ কেনা বা খাওয়া সম্ভব নয়। মূলত মাছটির পেটের ভেতরের ‘প্যাটা’র দাম বেশি হওয়ায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি মাছটি কিনেছেন।
ট্রলারের মাঝি ইলিয়াস বাসসকে বলেন, “মৌসুমের শুরু থেকেই আমরা লোকসানে আছি। সাগরে যেন মাছই নেই। তবে এই দাতিনা মাছটি পাওয়ায় ট্রলারের সব জেলেই খুব খুশি। সবার মুখে এখন হাসির ঝিলিক।” ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় কেবি মৎস্য বাজারে হতাশা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বড়ো একটি দাতিনা মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।



















