জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমুদ্রপথে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস শিথিল করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ তথ্য জানায়।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র জারি করেছে। এর মাত্র দুই দিন আগে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আর বাড়াবে না।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শুক্রবার পর্যন্ত যেসব জাহাজে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বোঝাই করা হয়েছে, সেগুলো আগামী ১৬ মে রাত ১২টা ০১ মিনিট (জিএমটি ০৪:০১) পর্যন্ত কেনা যাবে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল এই সংক্রান্ত আগের দফার সময়সীমা শেষ হয়েছিল।
এর আগে গত বুধবার বেসেন্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া বা ইরানÑকারও তেলের ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতা বজায় রাখবে না।
মূলত ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেয়।
এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তারা চরম সংকটে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রোলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। সামনে দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে তেলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ করার যে বৈশ্বিক চেষ্টা চলছে, তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে জি-সেভেন ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানে যা ঘটছে তার সুবিধা যেন কোনোভাবেই রাশিয়া না পায়।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
সূত্রঃ বাসস



















