বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ২ লাখ ৯২ হাজার প্রবাসীর নিবন্ধন বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড সচেতনতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত বরিশালে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়কালে ভুয়া দুই সাংবাদিক আটক ভূমিহীনদের জমির ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়েছে ভূমিদস্যু কুবিতে ফিল্ম সোসাইটির কর্তৃক চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও নবীনবরণ সড়ক দুর্ঘটনায় চবি ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলামের মৃত্যু নবীনগরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মাদক, প্রতিরোধ বিষয়ে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত চবি শাটল ট্রেন থেকে পড়ে ষাটোর্ধ ব্যক্তির মৃত্যু তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের অভিযানে বাসভর্তি ৯৬টি কম্বল জব্দ, দুইজন আটক নাসির নগরে ফার্মেসীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান, বেশ কয়েকটি ফার্মেসীকে জরিমানা বানারীপাড়ায় পাঁচ নারী পেলেন ‘অদম্য নারী পুরস্কার–২০২৫’ ‎‎চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৪ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ত্রিশাল মুক্ত দিবস উদযাপন অদম্য নারী সুমিকে সম্মাননা-গোয়াইনঘাটে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপিত বান্দরবানে রিসোর্ট মালিক ও ম্যানেজার অপহরণ-পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান শুরু নলছিটিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত ত্রিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজয় র‍্যালি

চরলাপাং হয়তো থাকবেই না আগামী মানচিত্রে- মেঘনার গর্ভে বিলীন হতে বসা এক গ্রাম

আরিফুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং- এক সময়ের প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ জনপদ। ছয় সিট জুড়ে বিস্তৃত এই গ্রামের প্রতিটি কোণে ছিল জীবনের স্পন্দন। কিন্তু আজ সেই চরলাপাং হারানোর পথে। মেঘনা নদীর ভয়াল ভাঙনে একে একে হারিয়ে গেছে ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ নং সিট। এখন টিকে আছে কেবল ৬ নং সিট — সেটিই তাদের শেষ আশ্রয়, শেষ লড়াই।

নদীভাঙনের গ্রাসে ইতিহাস স্থানীয়দের ভাষায়, চরলাপাংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

একসময় চার কিলোমিটার বিস্তৃত গ্রামটি এখন সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকায়। প্রতিদিনই মেঘনার ঢেউ এসে নতুন জমি, ঘরবাড়ি আর স্মৃতি গিলে খাচ্ছে।

এক বৃদ্ধ গ্রামের মানুষ কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমরা জমি হারাইছি, ঘর হারাইছি, এখন মনটাও হারায় ফেলছি।”

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে, বর্তমানে এই অবশিষ্ট সিটে রয়েছে- ৮টি মসজিদ, ২টি মাদ্রাসা, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কিন্ডারগার্টেন, ৩টি মাছ চাষের পুকুর, ২টি বাজার।

এর মধ্যে পুরাতন বাজারটি ইতোমধ্যেই নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে। নতুন বাজারটিও এখন ভাঙনের মুখে।

মানুষদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ—সবকিছু বিলীন হয়ে যাবে।
জনসংখ্যা ও জীবিকা বর্তমানে চরলাপাং গ্রামে প্রায় ৬ হাজার ভোটার রয়েছে।

তিনটি ওয়ার্ড (১, ২ ও ৩ নং) নিয়ে গঠিত এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী ও দিনমজুর।
তাদের মুখে একই আর্তনাদ- আমরা শুধু জমি হারাই নাই, শিকড় হারাইছি। এখন একটা সিটে গাদাগাদি কইরা বাঁচতাছি।”

সরকারের কাছে আবেদন- চরলাপাংবাসীরা বহুবার প্রশাসনের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনের আবেদন করেছেন। কিন্তু আজও তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

এক স্থানীয় সমাজকর্মীর কণ্ঠে হাহাকার- “যদি এখনই বাঁধ না হয়, তাহলে চরলাপাং নামটা শুধু ইতিহাস বইতে থাকবে।” উপসংহার চরলাপাং আজ কেবল একটি গ্রামের নাম নয়- এটি হারিয়ে যেতে থাকা মানুষের আর্তনাদ, একটা ইতিহাসের বিলাপ।

মেঘনার ঢেউ প্রতিদিন যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়- “চরলাপাং কি টিকবে আগামী প্রজন্মের মানচিত্রে?”
গ্রামবাসীর শেষ প্রার্থনা একটাই — “আমাদের বাঁচান, আমাদের চরলাপাং বাঁচান।”

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩